মেনু নির্বাচন করুন
পাতা

ঐতিহাসিক পটভূমি

ঐতিহাসিক পটভূমি

ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের সংক্ষিপ্ত ইতিহাসঃ

অধিদপ্তরে রূপান্তর

ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি সংযুক্ত বিভাগ।

বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইনের (১৮৮৫)  অধীন ভূমির মালিকানা সম্পর্কিত ম্যাপ ও খতিয়ান প্রণয়ন কাজ পরিচালনার লক্ষ্যে “বোর্ড অব রেভিনিউ” এর নিয়ন্ত্রণাধীনভূমি রেকর্ড ও কৃষি” নামে দপ্তর সৃষ্টি হয় ১৮৮৪  সালে।

১৮৮৮ সালে ভূমি রেকর্ড দপ্তর” নামে একটি স্বতন্ত্র দপ্তর গঠন করা হয়।  তখন জরিপ কাজ  সার্ভে অব ইন্ডিয়ার” উপর ন্যস্থ ছিল।

১৯১৯  সালে জরিপের কাজ ভূমি রেকর্ড দপ্তরের উপর ন্যস্থ হয় এবং এটিভূমি রেকর্ড ও জরিপ পরিদপ্তর হিসাবে রূপান্তরিত হয়।

১৯৭৫  সালে এটি একটি অধিদপ্তরে উন্নিত করা হয় এবং অফিসের নাম করণ করা হয়   ডিপার্টমেন্ট অব ল্যান্ড রেকর্ডস এন্ড সার্ভেস ”

অধিদপ্তরে স্থানান্তর

সি.এস  জরিপের সময় সার্ভে ও সেটেলমেন্ট  বিভাগের প্রধান অফিস ছিল কোলকাতায়। দেশ বিভাগের পর অস্থায়ী ভাবে বরিশাল জেলার ব্রাউনকম্পাউন্ড”  জরিপ বিভাগের অফিস স্থাপন করা হয়। তখন সেটেলমেন্ট প্রেস ছিল রংপুরে

পরবর্তীতে বরিশাল জেলা হতে জরিপ অফিস ঢাকার ওয়াজ ঘাট নবাব এষ্টটের বাড়িতে ও আরো কিছুদিন পর  টিপুসুলতান রোডের(ওয়ারী) ভাড়া বাড়িতে এবং অধিদপ্তর ভবন নির্মাণ সমাপ্ত হলে  ১৯৫৩ সালে বর্তমান স্থানে (তেজগাঁও) এ অধিদপ্তর টি স্থানান্তর করা হয়। এর কিছুদিন পর সেটেলমেন্ট প্রেস ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়।

ভূমি রেকর্ড ও জরিপের ইতিহাস

প্রাচীন হিন্দু যুগ :

এ সময়ে যিনি জঙ্গল কেটে জমি বানাতেন তিনি জমির মালিক হতেন। জমি হস্তান্তরের মালিকের স্বীকৃত অধিকার ছিল। কৃষি জমি কৃষকদের স্থায়ী বন্দোবস্ত দেওয়া হতো। গ্রাম ছিল ভূমি ব্যবস্থাপনার মূল ভিত্তি। গ্রামের কয়েকটি পরিবার সমবায়ী ব্যবস্থায় ভূমি ব্যবহার করতেন। রাজা ছিল রাজ্যের একচ্ছত্র অধিপতি। তিনি রাজ কর্মচারীদের মাধ্যমে রাজস্ব আদায় করতো। কোন জমিদার বা মধ্যস্বত্বভোগী ছিল না।

 

মুসলিম যুগ :

সুলতানী আমলে গ্রামীণ ব্যবস্থার পরিবর্তে জমিদারী ব্যবস্থায় রাজস্ব আদায় করা হতো। ইতিহাস হতে জানা যায় প্রথম জরিপ কাজ পরিচালনা করেন সেকান্দার শাহ ১৩৫৭ সাল থেকে ১৩৮৯ সাল পর্যমত। সেকান্দারী গজ নামক একটি নির্দিষ্ট পরিমাপকের মাধ্যমে এই জরিপ চালানো হয়। তিনি জমির উৎপাদিত ফসলের চার ভাগের এক ভাগ রাজস্ব ধার্য্য করেছিলেন। সম্রাট শের শাহ্ ১৫৪০-১৫৪৫ সাল পর্যন্ত ভূমি জরিপ করেন। ইহা ইতিহাসে উল্লেখ যোগ্য ভূমি জরিপ। এ সময় পাট্টা ও কবুলিয়ত প্রথার প্রবর্তন হয়। সম্রাট আকবর এর আমলে তার অর্থ মমএী টোডরমল জরিপ কাজ করেন । ভূমির দখলদারদের নিকট হতে তখন উৎপাদিত ফসলের তিন ভাগের একভাগ রাজস্ব আদায় করা হতো।

সম্রাট আওরঙ্গজেবের আমলে মুর্শিদকুলি খাঁ বাংলার সুবেদার ছিলেন। তার আমলে এ অঞ্চলে জামা-ই-তামিল-তুমার নামে একটি জরিপ পরিচালিত হয়। এ জরিপে বাংলাকে ১৩টি চাকলা এবং ১৬৬০ টি পরগনায় বিভত্তু করা হয়।

ইংরেজ আমল :

১৭৬৩-১৭৮২ সালে নক্সাবিদ মেজর জন রেনেল শৃংখলা বদ্ধ পদ্ধতিতে জরিপ কাজ করেন। তিনি জরিপের মাধ্যমে নক্সা প্রস্তত করেন। ১৭৬৫ সালে ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বার্ষিক ছাব্বিশ লক্ষ টাকার বিনিময়ে দিল্লির সম্রাট শাহ আলমের নিকট থেকে এদেশের ভুমি রাজস্ব আদায়ের কর্তৃত্ব লাভ করেন। তখন নায়েবগনের মাধমে রাজস্ব আদায় করা হতো।

১৭৬৯-১৭৭০ সাল (বাংলা ১১৭৬ সাল) এদেশে ভয়াভহ দুর্ভিক্ষ হয়। দুর্ভিক্ষে এদেশের একতৃতীয়াংশ লোক মারা যায়। ১৭৭২ সালে ওয়ারেন্ট হেষ্টিংস পাঁচশালা বন্দোবস্ত চালু করেন। ১৭৯০ সালে লর্ড কর্নওয়ালিশ দশশালা বন্দোবস্ত চালু করেন। ১৭৯৩ সালে তিনি চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত চালু করেন। ফলে মধ্যস্বত্বভোগী ও জমিদার শ্রেনীর সৃষ্টি হয় এবং গন অসন্তোষ দেখা দেয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ১৮৫৯ সালে রেন্ট এ্যাক্ট পাশ করা হয় এবং জমিদার ও প্রজাদের মধ্যে সম্পর্কের উন্নয়নের চেষ্টা করা হয়।

১৮৭৯ সালে রেন্ট কমিশন গঠন করা হয়। তার পরিপ্রেক্ষিতে ১৮৮৫ সালে বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইন পাশ করা হয়। এর ফলে কৃষকদের অধিকার প্রতিষ্টা হয়। প্রজাদের অধিকার সম্বলিত খতিয়ান প্রণয়ন করা হয়। এ আইনকে রায়তদের মেগনাকার্টা বলা হয়। এ আইনের মাধ্যমে ক্যাডাষ্ট্রাল সার্ভে শুরত হয়। ১৯৩৮ সালে জমিদারী প্রথা বিলোপ করার জন ফ্লাউড কমিশন গঠন করা হয। কমিশনের রিপোর্টের ভিত্তিতে জমিদারী অধিগ্রহন ও প্রজাস্বত্ব আইন ১৯৫০ পাশ করা হয়

 

ছবি


সংযুক্তি


সংযুক্তি (একাধিক)



Share with :

Facebook Twitter